সারা ভারত জুড়ে সবাই মোটামুটি হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানির নাম শুনেছে। স্থানীয় লোকেদের জিজ্ঞেস করলে যে কেউ একবারে প্যারাডাইস বিরিয়ানির নাম করবে,কিন্তু আমি একটা অন্য জায়গার নাম বলছি যা প্যারাডাইস বিরিয়ানি কে যে কোনো দিন ১০ গোল দেয়ার ক্ষমতা রাখে। সেই দোকান হায়দ্রাবাদের অনেক পুরোনো দোকান গুলির মধ্যে একটা। ভাগ্যবশতঃ এটিও চারমিনার এর কাছাকাছি। দোকানটির নাম শাদাব, এই নাম দিয়ে যেকোনো ওলা বা উবের আপনাকে ঠিক জায়গায় নামিয়ে দেবে।তাও আমি নিচে ম্যাপ লোকেশন দিচ্ছি। গেলে দেখতে পারেন।
ম্যাপ লোকেশন : https://goo.gl/maps/emwW1E7Eo5UnwVZX6
যদিও আমার এই লেখাটি শাদাব এর সম্পর্কে নয়, তাও কথা দিতে পারি ঠকবেন না। লাঞ্চে আমি শুধু বিরিয়ানি খেতে চাইনি , খেতে চেয়েছিলাম অন্যরকম কিছু , সেই ইচ্ছে টাই আমাকে নিয়ে এলো “৪ সিজন্স” [English: 4 Seasons] এ। এটি হায়দ্রাবাদের “টলি চৌকি” বলে একটি জায়গাতে আছে। রাস্তার ওপরেই এই রেস্টুরেন্ট টা , তাই পৌঁছতে আপনার কোনো অসুবিধা হবে না। ওলা , উবের বা অটো তে করে আরামে পৌঁছে যাবেন। এবার বলি পৌঁছে তো যাবেন কিন্তু খাবেন কি ? এখানে আপনি ২ টো জিনিস ট্রাই করতে পারেন। ১ “খাবস লাহাম ” আর ২ “মিক্সড কাবাব প্লাটার”।

খাবস লাহাম হলো একটি স্পেশাল মটন বিরিয়ানি রেসিপি যেখানে বিরিয়ানি আলাদা আর মটন আলাদা রান্না হয়। সার্ভ করাও হয় আলাদা করে। খেলে মনে হতে পারে আলাদা বিরিয়ানি খাচ্ছেন আর আলাদা করে সেদ্ধ মটন খাচ্ছেন। এক প্লেটে ২ পিস বড় সাইজের মটন থাকে। এটুকু বলতে পারি , এক প্লেট গোটা একজন খেতে পারবেন না। দুজনের জন্যে ঠিকঠাক হতে পারে যদি না আপনার খুব খিদে পেয়ে থাকে। মটন এর পিস গুলো খুবই নরম , তো আপনাকে কষ্ট করে চিবিয়ে খেতে হবে না। আমি যদিও কাবাব টা খেয়ে এটা খেয়েছিলাম তাই পেট আমার তাড়াতাড়ি ভরে গেছিলো। ১ প্লেটের দাম প্রায় ৪০০ টাকার মতো।

মিক্সড কাবাব প্ল্যাটার আইটেম যখন সার্ভ করলো আমি দেখে অবাক হয়েছিলাম , কারন এতদিন এরম কিছু খেয়ে দেখিনি। এই প্লেটে ছিল ৫ রকমের কাবাব , ২ টো চিকেন , ১ টা মটন শাম্মি কাবাব , ১ টা ফিশ কাবাব আর একটা চিংড়ি র কাবাব। ছবি দেখে ভাববেন না আমি একা খেয়েছি , আমরা ৫ জনে মিলে খেয়েছি। ১ প্লেটের দাম প্রায় ২১০০ টাকার মতো। দামটা একটু বেশি হলেও একটু অন্য রকম খাবার অভিজ্ঞতা হতে পারে।

এরপরে যদি কখনো হায়দ্রাবাদে যান, অবশ্যই ৪ সিজন্সে এই দুটি আইটেম খেয়ে দেখবেন। নিচে ম্যাপ লোকেশন এর লিংক দেওয়া রইলো।
ম্যাপ লোকেশন : https://goo.gl/maps/PuBkK7nxHem4XyBe6

এরপর একটু মিষ্টি খেতে ইচ্ছে হলো। ৪ সিজনসে হায়দ্রাবাদের একটি নামকরা মিষ্টি পাওয়া যায়। সেটা অন্য জায়গাতেও পাওয়া যায়। মিষ্টির নাম “ডাবল কা মিঠা“। আমরা বাঙালিরা কখনও পাঁউরুটি দিয়ে এরম জিনিস খেয়ে দেখিনি। অন্তত আমি নিজে কখনও খেয়ে দেখিনি। পাঁউরুটি আর ক্ষীরের যে কিরাম টেস্ট হয় সেটা ডাবল কা মিঠা খেয়ে বোঝা গেলো। কখনও হায়দ্রাবাদ এলে অবশ্যই খেয়ে দেখতে ভুলবেন না। দাম পড়তে পারে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। যতটা পাবেন ২ জনের হয়ে যাবে।

সেই দিনের মতো খাবার পর্ব শেষ করে বাড়ি ফেরার প্ল্যান হলো। বাড়ি ফেরার পথে একটা মজার ব্যাপার হলো। সেটা একটু জানিয়ে রাখি। ইচ্ছে ছিল শাদাব এর বিরিয়ানি নিয়ে বাড়ি ফিরে যাবো, রাতে সেই বিরিয়ানিই খাওয়া হবে। উল্টো রুট হবে আর তাছাড়াও সময়ের অভাবে আর যাওয়া হলো না। কিন্তু বিরিয়ানি খাবার ইচ্ছেটাকে আটকাই কি করে, অগত্যা রাস্তায় দাঁড়ানো হলো ক্যাফে বাহার নামে একটি রেস্তোরাঁয়। এটিও বেশ পুরোনো ও নামকরা। গুগল বাবার রেটিংও বেশ ভালোই দেওয়া আছে। বিরিয়ানি অর্ডার দিয়ে অপেক্ষা করছি কি দেখতে পেলাম ক্যাফে বাহারেরই একটা পানের স্টল। দেখুন পান আমি আপনি অনেকেই খেয়েছি, কিন্তু এ পান সে পান নয়। এ হলো ফ্লেভারড পান। এক একটি পান ২৫ টাকা। ফ্লেভার আছে চকলেট, বাটার স্কচ, মিল্ক চকলেট এরম বিভিন্ন ধরনের ছিল। নিয়ে ফেললাম ৪ রকমের পান। ফ্লেভার একটা পাতলা আস্তরণ যেটা পান এর ওপরে ছিল। মোটের ওপরে একটি ফ্লেভারযুক্ত মিষ্টি পান খেলাম।

তারপর বিরিয়ানি নিয়ে বাড়ি ফিরে গেলাম। পরের দিন প্ল্যান হলো লাঞ্চে যাবো আইকিয়া আর ডিনারে জেলেদের জেটি। সেটা পরের পর্বে পেয়ে যাবেন। লিঙ্ক দেয়া রইলো।


