সুধাকরের গাড়ির বাগান

mayurpankh car sudha car museum

গাড়ি তো আপনারা অনেকেই দেখেছেন কিন্তু কখনো কি রকমারি গাড়ি দেখেছেন ? যেমন ধরুন পেন্সিল গাড়ি , রবার গাড়ি কিংবা সুটকেস গাড়ি। না আমি খেলনা গাড়ির কথা বলছি না। আমি এমন গাড়ির কথা বলছি যা রীতিমতো চালানো যায়। এরম গাড়ি চাইলেই যে পাবেন সেরম নয় , গোটা ভারতবর্ষে এরম একজনই লোক আছেন যিনি এই অদ্ভুত শখ রাখেন। কি সেই অদ্ভুত শখ ? রকমারি গাড়ি বানানো।

এই ভদ্রলোকের নাম হলো কে সুধাকর। ইনি থাকেন হায়দ্রাবাদে। স্কুলে পড়ার সময় থেকেই এই ধরণের শখ ছিল তার। ব্যাস বড়ো হয়ে বানিয়ে ফেললেন পৃথিবীর সবথেকে বড়ো “ট্রাইসাইকেল” . আপনি হয়তো ভাবছেন এ আর এমন কি , তাহলে আপনাকে বলি এই “ট্রাইসাইকেল” টির চাকার ব্যাস হলো ১৭ ফুট আর সাইকেলটির দৈর্ঘ্য হলো প্রায় ৩৭ ফুট। এই জিনিস বানানোর পর সে খবর কি আর চেপে রাখা যায় ! গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে ওনার নাম উঠলো। যখন উনি এটা পেলেন তখন সালটা হলো ২০০৫।

এই ঘটনাটির প্রভাব ওনার আত্মবিশ্বাসে পড়েছিল। ব্যাস তারপর আর উনি পিছনে না তাকিয়ে মাত্র ৫ বছরের মধ্যে বানিয়ে ফেললেন নিজস্ব গাড়ি সংগ্রহশালা। হ্যাঁ ২০১০ থেকে উনি নিজের বানানো এই সংগ্রশালা চালাচ্ছেন , যেখানে দেশ বিদেশের বহু পুরোনো গাড়ির সাথে সাথে তার নিজের ডিজাইন করা গাড়িও আছে। এই গাড়ি গুলি চালানো হয় কোনো দিনবিশেষে , যখন প্রচুর লোক ভীড় জমান শুধু গাড়িগুলো কিভাবে চালানো হচ্ছে তা দেখতে। নাম দিয়েছেন “সুধা কার মিউজিয়াম” . বিশেষ উৎসবের দিনগুলির জন্যে ইনি গাড়ি ডিজাইন করে রেখেছেন যেমন চিলড্রেন্স ডের জন্যে পেন্সিল গাড়ি, এইডস ডের জন্যে কন্ডোম গাড়ি , উইমেন্স ডের জন্যে মহিলা জুতো গাড়ি কিংবা প্রযুক্তি দিবসের জন্যে কম্পিউটার গাড়ি।

এই গল্পে আমি কী করে এলাম ভাবছেন তো ? ওই যে হায়দ্রাবাদে একটি কাজে গিয়েছিলাম। সেখানে সেখানকার সরকারের পর্যটন ওয়েবসাইট থেকে জানতে পারলাম অনেক জিনিসের সাথে এটিও একটি দেখার বিষয়। বেশি দূর ছিল না তাই , একদিন পরিকল্পনা করে চললাম গাড়ি দেখতে। যা দেখলাম , তাতে আমার মন জুড়োলো। সত্যি একজন প্রযুক্তিবিদ হিসেবে আমাকে এটা স্বীকার করতে হবে যে ইনি অমানুষিক পরিশ্রম করে নিজের ট্যালেন্টকে কাজে লাগিয়ে যা বানিয়েছেন তা সত্যি প্রশংসা পাবার যোগ্য। এখানে ঢুকতে গেলে ৫০ বা ৬০ টাকার একটি টিকিট কেটে ঢুকতে হয়। মোবাইল ফোন এরও আলাদা করে ৫০ টাকার টিকিট কাটতে হয়। আমি জায়গাটির গুগল ম্যাপ লিংক দিলাম (নামের ওপর ক্লিক করতে হবে ), কখনও হায়দ্রাবাদ গেলে অবশ্যই দেখে আসবেন এই “সুধা কার মিউজিয়াম”.