প্রথম যখন প্ল্যান করছি পুরুলিয়া যাবো পরিবারের সবাই মিলে, কি মনে করে শীতকালটা ছেড়ে ফেব্রূয়ারি মাসে যাবো ঠিক করলাম। সেইমতো টিকিট ও হোটেল বুক করে ফেললাম। বসন্তের পুরুলিয়া যে এক কথায় অনবদ্য সে আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এবার বলি কিভাবে ট্যুর টা প্ল্যান করেছিলাম , আপনারাও সেভাবে করলে অনেক কিছুই কম সময়ে দেখে নিতে পারবেন। পুরুলিয়ায় ২ রকমের ভ্রমণ সার্কিট রয়েছে। একটি হলো গড় সার্কিট আর অন্যটা অযোধ্যা সার্কিট। গড় সার্কিট দেখতে গেলে আসানসোল থেকে পুরুলিয়া ঢোকা সুবিধে আবার অযোধ্যা সার্কিট দেখতে গেলে পুরুলিয়া স্টেশন থেকে ঢুকতে হবে। আমাদের কাছে ২ দিন সময় ছিল আর আমরা দুদিনেই এই ২ সার্কিটের অধিকাংশ জায়গা ঘুরেছি।

প্রথমদিন আমাদের গন্তব্য ছিল অযোধ্যা সার্কিট। অযোধ্যা সার্কিটে অনেকগুলো ঘোরার জায়গা রয়েছে , তবে যেহেতু আমরা বড়ন্তি থেকে গিয়েছি আমাদের সময় লেগেছে প্রায় সাড়ে ৩ ঘন্টার মতো। দূরত্ব ছিল প্রায় ১৩০ কিমি। সুতরাং এই পথে যদি আসেন বুঝতেই পারছেন অনেক সকালে উঠে বেরিয়ে পড়তে হবে। আমরাও তাই করেছিলাম। আমাদের প্রথম গন্তব্য ছিল মার্বেল লেক। পাহাড়ের কোলে এই স্বচ্ছ জলের লেক দেখে আপনি অভিভূত হবেনই। চারপাশের উঁচু পাহাড়গুলি থেকেও অনেকভাবে এই লেকের ছবিও তুলতে পারবেন।

মার্বেল লেক দেখে আমরা রওনা দিলাম আমাদের পরের গন্তব্য বামনী ফলস। প্রথমেই বলি সিঁড়ি দিয়ে অনেকটাই নিচে নামতে হয় এই ফলস ভালোভাবে দেখতে। আমাদের গ্রূপের বয়স্করা তো নামেনি , আমি নেবেছিলাম। হ্যাঁ এই নিচের ছবি তারই ফল।

বামনী ফলস দেখতেই আমাদের দুপুর দেড়টা বেজে গেলো আর তাই পেট বাবাজিও খাবার কথা বলতে লাগলো। তাই আমরা অযোধ্যা পাহাড় থেকে নেমে আসলাম নিচে। পাহাড়ের ওপর খাবারের দাম অনেক , তাই আমাদের ড্রাইভার দাদাটি আমাদের নিচে নিয়ে এলেন। এই প্রথম খাবারের জন্য অনেকটা নিচে নামতে হলো। যাই হোক রাস্তার ধারের এক হোটেলে মাছ ভাত পরিপাটি করে খেয়ে রওনা দিলাম পরের গন্তব্য চড়িদা গ্রাম। খাবারের হোটেল থেকে চড়িদা গ্রাম যেতে ৫ মিনিট লাগলো। চড়িদার ব্যাপারে কিছু বলার আগে বলি , রাস্তায় কিছু অপূর্ব পলাশের দেখা পেলাম। বসন্ত কালে পুরুলিয়া আসা আমাদের সার্থক হলো। চোখ জুড়োল পলাশের রূপ দেখে , তাই ঝটপট ক্যামেরাবন্দি করলাম।

চড়িদা গ্রাম বিখ্যাত এর মুখোশ শিল্পের জন্য। এ গ্রামের সব বাড়িতে তৈরি হচ্ছে মুখোশ। সে রকমারি মুখোশের একটি সংগ্রহশালাও রয়েছে। সেখানে গিয়ে এই শিল্পকে কুর্নিশ জানাতে ইচ্ছে হলো। আমাদের এই বাংলাতে কত কিইনা আছে , কতটাই বা আর আমরা জানি বা দেখেছি। সংগ্রহশালা থেকে বেরিয়ে একটি দোকান থেকে ৩ তে মুখোশ কিনলাম , রইলো পুরুলিয়ার স্মৃতি হিসেবে।

চড়িদা থেকে পাখি পাহাড় যাওয়া যায় , তবে সময়ের অভাবে আমরা যাইনি। আমরা আবার পাহাড়ের দিকে চললাম। আমাদের পরের গন্তব্য ছিল তুর্গা ড্যাম। তুর্গা ড্যাম এ দেখার সেরম কিছু নেই। ড্যামের জল অনেক নোংরা , একঝলক দেখে নিয়েই চললাম পরের গন্তব্যে। লোয়ার ও আপার ড্যাম।

লোয়ার ও আপার ড্যাম আমাদের আজকের শেষ দুটি গন্তব্য ছিল। লোয়ার ও আপার ড্যাম বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হয়। এ ড্যামের জল পুরো নীল এবং পরিষ্কার। আপনারা আর যাই দেখুন আর না দেখুন , কখনো অযোধ্যা পাহাড়ে এলে এই দুটি ড্যাম অবশ্যই দেখবেন। এরম নৈসর্গিক দৃশ্য অনেকদিন স্মৃতিতে থেকে যাবে।


এই ড্যাম দুটি দেখে ফিরে এলাম হোটেলে। সন্ধে ৭ টায় পৌঁছে গেলাম। রাতের মটন আর রুটি খেয়ে শুয়ে পড়লাম , কাল সকালে উঠে ঘুরতে যেতে হবে তো। আবার কালকেই ফেরার ট্রেন। কালকের ঘোরা পরের পর্বে দেয়া রইলো।
